বুদ্ধি হল একপ্রকার মানসিক শক্তি যার বহিঃপ্রকাশ বিভিন্ন প্রকার আচরণের মধ্য দিয়ে ঘটে থাকে। বুদ্ধির কতকগুলি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে, সেগুলি হল—

(1) সর্বজনীন ক্ষমতা: প্রতিটি মানুষ সাধারণ মানসিক ক্ষমতা নিয়ে ভূমিষ্ঠ হয়। সকল মানুষের মধ্যে বিদ্যমান সর্বজনীন এই ক্ষমতা ব্যক্তির অন্যান্য ক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করে।

(2) মৌলিক মানসিক ক্ষমতা : বুদ্ধি হল একটি মৌলিক মানসিক ক্ষমতা, যা বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

(3) সহজাত ক্ষমতা : জন্মসূত্রে শিশু সাধারণ মানসিক ক্ষমতার বা বুদ্ধির অধিকারী হয়ে থাকে। এটি অর্জন করা যায় না। একে কার্যকরী করতে অনুশীলনের প্রয়ােজন হয়।

(4) শিখনের ক্ষেত্রে সহায়তা : বুদ্ধি অতীত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের বিভিন্ন ধরনের বিষয় শিখতে সাহায্য করে। অল্প বুদ্ধি ও বেশি বুদ্ধিমান ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য হল বুদ্ধিমান ব্যক্তিগণ সহজেই কোনাে জিনিস বা বিষয় শিখনে দ্রুত সক্ষম হয়।

(5) স্বাতন্ত্র্য : স্বাতন্ত্র্য হল জীবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এই বৈশিষ্ট্যের জন্য ব্যক্তিভেদে সাধারণ মানসিক ক্ষমতা বা বুদ্ধির পার্থক্য দেখা যায়। এর ফলে, একই কর্মে বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যে কর্ম নৈপুণ্যের ব্যবধান দেখা যায়।

(6) বিমূর্ত চিন্তন : বুদ্ধির একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল বিমূর্ত চিন্তনের ক্ষমতা। মনােবিদ টারম্যানের বুদ্ধির সংজ্ঞায় বিমূর্ত চিন্তনের কথা পাওয়া যায়। যে ক্ষেত্রে মূর্ত বিষয়গুলি ছাড়াও ব্যক্তি সহজেই জটিল, সূক্ষ্ম এবং দার্শনিক ভাবনা ভাবতে পারে তাতে তীক্ষ্ণ বুদ্ধির প্রয়ােজন হয়।

(7) ক্ষিপ্রতা : বুদ্ধির একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল ক্ষিপ্রতা (Speed)। বাস্তবে দেখা যায়, শ্রেণিতে বুদ্ধিমান শিক্ষার্থীরা অল্প বুদ্ধিসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের তুলনায় ক্ষিপ্রতার সঙ্গে যে-কোনাে সমস্যার সমাধান করে থাকে।

(8) বৃত্তিগত সফলতা : সাধারণ মানসিক ক্ষমতা বা বুদ্ধিই মানুষকে বৃত্তিগত বা পেশাগত সাফল্য এনে দেয়। বৃত্তি নির্বাচনের ক্ষেত্রে বুদ্ধির দিকে লক্ষ রেখে নির্বাচন কার্য সম্পন্ন করা বাঞ্ছনীয়।

(9) সমস্যাসমাধানে সক্ষম : নতুন নতুন আবিষ্কারের ফলে সেগুলি  বিশ্লেষণ করা ও বােধগম্য হওয়ার এবং দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন উদ্ভূত সমস্যাসমাধানে বুদ্ধি সহায়তা করে।

(10) বিচারবুদ্ধি : আরােহ এবং অবরােহ পদ্ধতিতে কোনাে বিষয়কে  বিশ্লেষণ করে মূল্যায়নে আসা বুদ্ধির সাহায্যে সম্ভব।

(11) পরিবেশে অভিযােজন : পরিবর্তিত ও নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধির দ্বারা সম্ভব। উইলিয়ম স্টার্ন-এর বর্ণনায় বুদ্ধির এই বৈশিষ্ট্য বর্ণিত হয়েছে।

(12) অভিজ্ঞতার প্রয়ােগ : বুদ্ধির দ্বারা অভিজ্ঞতার পুনরুদ্রেক করে তার সঠিক প্রয়ােগ সম্ভব হয়। তার ফলে বিভিন্ন সমস্যাসমাধান সম্ভব হয় এইভাবে সঠিক প্রয়ােগের মাধ্যমে।

সুতরাং বলা যায়, বুদ্ধি বা সাধারণ মানসিক ক্ষমতা হল এমন একটি মানসিক প্রক্রিয়া, যা প্রতিটি মানুষের দৈনন্দিন কর্ম থেকে কঠিন ও জটিল সমস্যার সমাধানে এবং সমাজের প্রতিটি মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে সমাজকে আরও সুন্দর ও গতিময় করে তুলতে সাহায্য করে।

Rate this post