কোঠারি কমিশনের সুপারিশ অনুসারে বর্তমানে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার চতুর্থ স্তর হল উচ্চশিক্ষা। সাধারণত কলেজীয় শিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা এই স্তরের অন্তর্গত। প্রথাগত স্কুল শিক্ষার ক্ষেত্রে যেমন শিক্ষাদানের জন্য বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তেমনি কিভাবে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে নানা ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- (A) কলেজ বা মহাবিদ্যালয়, (B) বিশ্ববিদ্যালয় এবং (C) পেশাগত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষার জন্য মূলত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় এবং বৃত্তি শিক্ষার জন্য পেশাগত প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে।

(A) কলেজ বা মহাবিদ্যালয়: উচ্চশিক্ষার প্রথম স্তর স্নাতক ডিগ্রি। এই স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হল মহাবিদ্যালয় বা কলেজ। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে অর্থাৎ দ্বাদশ শ্রেণি বহিঃ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষার্থীদের স্নাতক স্তরে কলেজে ভর্তি হয়।

এই শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য হল শিক্ষার্থীকে উপযুক্ত শিক্ষাদানের মাধ্যমে পরবর্তী শিক্ষাস্তর অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের জন্য প্রস্তুত করে দেওয়া। এই মহাবিদ্যালয় আবার চার প্রকারের হয়ে থাকে, যথা—

(১) রাষ্ট্রীয় মহাবিদ্যালয় : রাষ্ট্র পরিচালিত যে সকল মহাবিদ্যালয় বা College হয়েছে, সেগুলোর সব দায়িত্ব রাষ্ট্র গ্রহণ করে থাকে।

(২) সরকার অনুমোদিত মহাবিদ্যালয়: এগুলি যৌথভাবে চলে, অর্থাৎ এই মহাবিদ্যালয়গুলির কিছু দায়িত্ব সরকার বহন করে, আর কিছু দায়িত্ব কলেজ কর্তৃপক্ষ বহন করে।

(৩) বেসরকারি মহাবিদ্যালয়: বেসরকারি মহাবিদ্যালয় গুলিতে রাষ্ট্র কোন সাহায্য করে না, এগুলো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দ্বারা পরিচালিত হয়।

(৪) ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দ্বারা পরিচালিত মহাবিদ্যালয়: আমাদের দেশে এমন অনেক মহাবিদ্যালয় আছে। যেগুলি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দ্বারা সম্পূর্ণভাবে পরিচালিত হয়ে থাকে।

উল্লিখিত মহাবিদ্যালয় গুলোর প্রত্যেকটির শিক্ষাকাল তিন বছর। এখানে তিন বছর শিক্ষালাভের পর শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়। এ ছাড়াও মহাবিদ্যালয় গুলিতে দুই-ধরনের শিক্ষা কোর্স রয়েছে। যথা —

  • অনার্স কোর্স: এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা একটি বিষয়ে অনার্স পড়ে এবং দুটো পাস কোর্সের বিষয় এর সঙ্গে তাদের পড়তে হয়।
  • পাস কোর্স: এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের তিনটি পাসের বিষয় পড়তে হয়। এ ছাড়াও শিক্ষার্থীদের বাংলা বা অন্য যে-কোনাে একটি আঞ্চলিক ভাষা, ইংরেজি ভাষা এবং পরিবেশ বিজ্ঞান বিষয়গুলি আবশ্যিক বিষয় হিসেবে পড়তে হয়।

(B) বিশ্ববিদ্যালয়: উচ্চশিক্ষায় মহাবিদ্যালয় বা কলেজ স্তরের পর হল বিশ্ববিদ্যালয় বা স্নাতকোত্তর স্তর। বিশ্ববিদ্যালয়গুলি কয়েক ধরনের হয়। পরিচালনার ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্বে থাকে এবং রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনায় থাকে রাজ্য সরকার। সাংগঠনিক দিক থেকে রয়েছে অনুমোদনকারী বিশ্ববিদ্যালয়, একক বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

(C) অন্যান্য ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ডিগ্রি কলেজগুলি ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে পাঠদানের জন্য কয়েক ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। যেমন যথা —

  • আইন কলেজ: যে সকল শিক্ষার্থী আইন নিয়ে পড়াশোনা করতে চায়, তারা দু-বছর ব্যাপী উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পূর্ণ করে। তাদের যোগ্যতার ভিত্তিতে আইন কলেজ গুলোতে অংশগ্রহণ করতে পারে। আইন কলেজগুলিতে পড়ার সময়সীমা সাধারণত পাঁচ বছর ব্যাপী।
  • নার্সিং কালজ: বিভিন্ন প্রকার নার্সিং কলেজ, যেখানে নার্সিং ট্রেনিং দেওয়া হয়ে থাকে। পাস করার পরবর্তীকালে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয় শিক্ষার্থীদের।
  • বিভিন্ন বৃত্তিমুখী কলেজ: এক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের বৃত্তিমুখী কাজ, যেমন—ইঞ্জিনিয়ারিং, ওয়েল্ডিং প্রভৃতি বিষয়ে শিক্ষা প্রদান করা হয়। যাতে পরবর্তীকালে শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তিদ্বারা নিজস্ব জীবিকা অর্জনে সক্ষম হয়।
  • ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ: উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করার পর শিক্ষার্থীরা তাদের মান ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলিতে ভরতি হয়। এক্ষেত্রে ভরতির জন্য বিশেষ শর্ত হল, শিক্ষার্থীকে বিজ্ঞান বিভাগীয় হতে হবে এবং এই প্রকার শিক্ষাব্যবস্থার সময়কাল ৩-৫ বছর। উত্তীর্ণ হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

এ ছাড়া বিভিন্ন কোর্স, যেমন—আইটিআই, কম্পিউটার সহযোগী শিক্ষা প্রভৃতি ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ পরিলক্ষিত হয়।

Rate this post