আর্থিক দিক থেকে দুস্থ জাতি, ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায় নির্বিশেষে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ যাতে শিক্ষায় সমান সুযােগসুবিধা ভােগ করতে পারে, তার জন্য কোঠারি কমিশন যেসব গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছে সেগুলি হল—

(১) অবৈতনিক শিক্ষা: সর্বস্তরের শিক্ষাকে ধীরে ধীরে অবৈতনিক করে তুলতে হবে। কমিশনের প্রস্তাব ছিল চতুর্থ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা শেষ হওয়ার আগেই সমস্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষাকে অবৈতনিক করতে হবে।

(২) সমসুযােগ : প্রাথমিক শিক্ষার সম্প্রসারণ হল শিক্ষায় সমসুযােগ সৃষ্টির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি।

(৩) বিনামূল্যে পাঠ্য বস্তুর জোগান : প্রাথমিক স্তরের ছাত্রদের বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক, শিক্ষাসামগ্রী ইত্যাদি সরবরাহ করতে হবে।

(৪) অবৈতনিক শিক্ষা : পঞম পরিকল্পনার মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি নিম্নমাধ্যমিক শিক্ষাকে অবৈতনিক করতে হবে।

(৫) মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অবৈতনিক শিক্ষা : উচ্চতর মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাকে খুব তাড়াতাড়ি অবৈতনিক করা সম্ভব নয় বলে কমিশন মত দিয়েছে, তবে দশ বছরের মধ্যে উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।

(৬) Book Bank প্রতিষ্ঠা : মাধ্যমিক ও উচ্চতর মাধ্যমিক স্তরে Book Bank প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

(৭) বইয়ের জোগান : স্কুল ও কলেজগুলির গ্রন্থাগারের উন্নতি করতে হবে এবং সেখানে যাতে যথেষ্ট পরিমাণে পাঠ্যপুস্তক ও অন্যান্য Reference book থাকে, তার ব্যবস্থা করতে হবে।

(৮) অর্থসাহায্য : অপেক্ষাকৃত মেধাবী ছাত্রদের বই কেনার জন্য অর্থসাহায্য করতে হবে।

(৯) বৃত্তির ব্যবস্থা : শিক্ষার সর্বস্তরে ছাত্রছাত্রীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করতে হবে। প্রাথমিক স্তরের শেষে মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশােনা যাতে বন্ধ না হয়, তার জন্য যথেষ্ট ছাত্রবৃত্তির ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিটি বিদ্যালয়ের সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রথম ১০ শতাংশকে বৃত্তি দিতে হবে। প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে তাদের বিশেষ সাহায্যের ব্যবস্থা করতে হবে। কমিশন ঋণমূলক ছাত্রবৃত্তি (Loan Scholarship) দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। পরিকল্পনা করে জাতীয় বৃত্তির ব্যবস্থা করতে হবে। স্নাতকোত্তর স্তরে, বৃত্তিশিক্ষায় ও পেশাগত উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে যাতে যথাক্রমে ২০ শতাংশ, ৩০ শতাংশ ও ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী বৃত্তি পায় তার ব্যবস্থা করতে হবে।

(১০) ঋণমূলক ছাত্রবৃত্তি : প্রতি বছর মেধার ভিত্তিতে ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে বিদেশে পাঠানাের জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। বিদেশে পেশাগত শিক্ষার জন্য ঋণমূলক ছাত্রবৃত্তি (Loan Scholarship) দেওয়ার ব্যবস্থা কেন্দ্রীয় সরকারকে করতে হবে।

(১১) কমনস্কুল সিস্টেম : জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলকে সমান সুযোেগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে Common School System চালু করার কথা বলা হয়। এই ধরনের স্কুলগুলির শিক্ষার মান খুব উন্নত হবে এবং এগুলি অবৈতনিক হবে।

(১২) শিক্ষার সম অগ্রগতি : শিক্ষার অগ্রগতিতে সারা দেশের বিভিন্ন জেলা ও রাজ্যগুলির মধ্যে যে পার্থক্য আছে, তা কমিয়ে আনতে হবে।

(১৩) দুর্বল শ্রেণির শিক্ষার সুযােগ : দুর্বল ও অনগ্রসর শ্রেণির শিক্ষার সুযোেগ আরও অধিক পরিমাণে বৃদ্ধি করতে হবে।

(১৪) নারীশিক্ষা : নারীশিক্ষার প্রসারের জন্য National Committee on Women Education-এর সুপারিশ কার্যকরী করতে হবে।

(১৫) ভাষা : ত্রি-ভাষার সূত্র প্রয়ােগ করা হবে।

(১৬) জাতীয় আয় থেকে অর্থ বরাদ্দ : শিক্ষার জন্য ক্ৰমিক পর্যায়ে। জাতীয় আয়ের ৬% বরাদ্দ করা হবে।

Rate this post