জাতীয় বয়স্ক শিক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে ৩৫ বছর বয়সী সকল ভারতবাসীকে স্বাক্ষর করে ভালই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে সারা ভারতে ২৪ তম সম্মেলনে বিধিমুক্ত বয়স্ক শিক্ষার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে ২ অক্টোবর জাতীয় বয়স্ক শিক্ষা কর্মসূচি (NAEP) কাজ শুরু হয়। এই কর্মসূচি সফল করতে ৭ লক্ষ বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। তপশিলি জাতি, তপশিলি উপজাতি মানুষদের জন্য বিশেষ কর্মসূচিকে গ্রহণের কথা বলা হয়েছিল।

(১) নৈশ বিদ্যালয়: বয়স্ক ব্যক্তিদের শিক্ষাদানের জন্য নৈশ বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে।

(২) বিভিন্ন সংগঠন : স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, বিভিন্ন ক্লাব ও মহিলা সমিতি বয়স্ক শিক্ষার জন্য এগিয়ে এসেছে।

(৩) গ্রন্থাগার স্থাপন : নিরক্ষর বয়স্ক ব্যক্তি সাক্ষরতা অর্জনের পর যাতে চর্চার অভাবে পুনরায় নিরক্ষর হয়ে না পড়ে, সেজন্য গ্রন্থাগার স্থাপন করা হয়েছে।

(৪) জনশিক্ষা প্রসার ভবন : বয়স্ক শিক্ষার সমস্ত কর্মসূচিকে সার্থক রূপ দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকার জনশিক্ষা প্রসার ভবন’ নামে একটি প্রকল্প চালু করেছে।

(৫) অনুকূল পরিবেশ : সমস্তরকম সম্ভাব্য মাধ্যমের দ্বারা অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে, যাতে বয়স্ক শিক্ষার প্রসার সম্ভব হয়।

(৬) প্রতিনিধিত্ব করা : আর্থিক ও প্রশাসনিক সমর্থনের মাধ্যমে অবসর প্রাপ্ত কর্মীবৃন্দ, প্রাক্তন চাকুরিজীবী, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রীদের নির্দেশনায় প্রতিনিধিত্ব গ্রহণ করতে হবে।

(৭) গণমাধ্যম ব্যবহার : গ্রামাঞ্চলে পিছিয়ে থাকা মানুষজন এবং নারীদের মধ্যে বয়স্ক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে গণমাধ্যমগুলোকে কাজে লাগাতে হবে।

(৮) শিক্ষার্থীগন : যে সকল শিক্ষার্থী স্কুলের গণ্ডি পার হয়েছে, তাদের পাস করার পর অন্তত ১০ দিন এবং কলেজ পাস করার পর ছাত্রছাত্রীদের ২০ দিন আবশ্যিকভাবে বয়স্ক শিক্ষাদানে অংশগ্রহণ করতে হবে।

(১) বিপুল সংখ্যক বয়স্ক ব্যক্তিকে সাক্ষর করে তােলা : বয়স্ক শিক্ষা কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ৫ বছরের মধ্যে দেশের ১০ কোটি বয়স্ক নিরক্ষর ব্যক্তিদের স্বাক্ষর করে তোলা।

(২) সামাজিক দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন : প্রতিটি রাষ্ট্রই চায় নাগরিক হিসেবে সে যেন তার দায়িত্ব ও কর্তব্য সুষ্ঠুভাবে পালন করতে পারে। তাই প্রতিটি ব্যক্তিকে নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব ও কর্তব্যপরায়ণ করে তোলার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। তাই বয়স্ক শিক্ষা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

(৩) ব্যক্তির অন্তর্নিহিত সম্ভাবনার প্রকাশ : প্রতিটি ব্যক্তির মধ্যে যে অন্তর্নিহিত সুপ্ত সম্ভাবনা আছে, তা প্রকাশ করার জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত শিক্ষার। ব্যক্তির সুপ্ত সম্ভাবনা প্রকাশ পেলে তা দেশের কল্যাণে নিয়োজিত করতে পারে। দেশ গঠনের দায়িত্ব যাদের হাতে, তাদের শিক্ষিত করা প্রয়োজন। তাই বয়স্ক শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য ব্যক্তির অন্তর্নিহিত সম্ভাবনার প্রকাশ ঘটানো।

(৪) কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গঠন : বয়স্ক শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য হল কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গঠন করা। কুসংস্কার সমাজের অগ্রগতিতে বড বাধা। তাই বয়স্ক শিক্ষার মধ্য দিয়ে মানুষের মনের কুসংস্কার দূর করা প্রয়োজন।

(৫) শিক্ষার অগ্রগতি ঘটানো : সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে বঞ্চিত মানুষদের মধ্যে শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে।

(৬) সচেতনতা বৃদ্ধি : আত্মবিশ্বাস ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বয়স্ক শিক্ষার দরকার।

(৭) দক্ষতা বৃদ্ধি : প্রত্যেকটি মানুষের কর্মক্ষেত্রে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এই ধরণের শিক্ষার একান্ত দরকার।

Rate this post