অনেক কিছু ভাবার চেয়ে অল্প কিছু করাও শ্রেয়। 

ভাব-সম্প্রসারণ : কোনাে কাজ সুষ্ঠুভাবে যথাসময়ে সম্পন্ন করার জন্য চিন্তা-ভাবনা করে পিরকল্পনা করে পরিকল্পনা করা একান্ত প্রয়ােজন । তবে পিরকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। অনেক কিছুই পরিকল্পনা করা হলো, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই করা হলাে নাー এমন পরিকল্পনার কোনাে সার্থকতা নেই। সুতরাং খুব বেশি ভাবনা ー চিন্তা আর পরিকল্পনার সময় ব্যয় না করে সঠিক নিয়মে এবং স্বাভাবিকভাবে অল্প কাজের মধ্য দিয়ে জীবনের সার্থকতা পাওয়া যায়। 

মানবজীবনে চলার পথে রয়েছে নানা বাধা-বিপত্তি ও সংঘাত। সংসারে দুঃখ আছে, বিপদ আছে, লাঞ্ছনা আছে ও অসম্মানও আছে। কিন্তু এসবের মধ্যে রয়েছে অজস্র কাজের দায়িত্ব ও কর্তব্য। কারণ কর্মের সাধনা দিয়েই জীবনকে পিরপূণ করে তুলতে হয়। সুতরাং সে অর্থেই কর্ম মানুষের ইবাদত সমতল্য। আর নানা প্রতিকলতার মধ্য দিয়ে কাজ-সম্পন্ন করতে হয় বলে যেকোনাে কাজ নিয়ে থাকতে হয় সুষ্ঠ চিন্তা-ভাবনা, বিচার-বিবেচনা এবং বাস্তবায়নে একটি সঠিক পরিকল্পনা। কারণ পাঠক পরিকল্পনা ছাড়া কোনাে কাজই সুন্দরভাবে সম্পন্ন হতে পারে না । তাই একটি ভবন নির্মাণের আগেই প্রয়ােজন হয় পিরকল্পনা মাফিক একটি নকশা। সুতরাং যেকোনাে কাজেই একটি কর্ম ーপরিকল্পনা অপরিহার্য। কিন্তু বাস্তবতায় দেথা সম শুধ পরিকল্পনা করতে দিনের পর দিন চলে যায় কাজ শুরুই হয় না। এ ধরনের পরিকল্পনার কোনাে সার্থকতা থাকে না। বর্তমান বিশ্বের দিকে তাকালে এ ধরনের নজির খুব বিরল নয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায় যে, ‘প্যারিস জলবায়ু সমেশন যা ২০১৫ সালের ১১ ডিসেম্বর স্থানীয় সময় অনুযায়ী সন্ধ্যায় ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিত হয়। এখানে বিশ্বনেতারা ধরণী রক্ষার’ ঐতিহাসিক চুক্তিতে পৌছালেও তার সঠিক কোনাে বাস্তবায়ন আজও হয়নি; বরং বিশ্বে সবচেয়ে বিেশ কারন। নিঃসরণকারী খােদ আমেরিকার সিনেটই এ বিষয়ে দ্বিধাবিভক্ত। সুতরাং বিশ্বব্যাপী এত পরিকল্পনার আদৌ কোনাে মূল্য আছে কি, যদি এর সামান্যতম বাস্তবায়ন না হয়! বাংলাদেশেও এ ধরনের সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। সরকারি পর্যায়ে অনেক বড়াে বড়াে পরিকল্পনা প্রণয়ন হলেও তা আলাের মুখ দেখতে পায় না। এছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে যে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয় তা বাস্তবায়ন হয় না। এ অবস্থা আমাদের ব্যক্তি পর্যায়ে রয়েছে আমরা কোনাে কাজের আগাম চিন্তা-ভাবনা নিয়ে এতাে ব্যস্ত থাকি যে, মূল কাজ শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন হয় না। পবিত্র কুরআনে স্বয়ং আল্লাহ নির্দেশ করেছেন যে, নামাজের পরই তােমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়– অর্থাৎ কাজে হাত দাও। সুতরাং কাজই মুখ্য বিষয়। তাই আজ পৃথিবীতে যারা চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন তারা পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করেছেন। আমাদের উচিত বসে না থেকে কিংবা ভাবনা-চিন্তায় একদণ্ডও সময়ের অপচয় না করে বরং কাজ যত ছােটোই হােক তা সম্পন্ন করার জন্য ঝাপিয়ে পড়া।

কাজের প্রয়ােজনে ভাবনা-চিন্তা-পরিকল্পনা থাকতে পারে। অনেক কিছু না ভেবে, বৃথা সময় ব্যয় না করে অল্প কাজের মধ্যেও। জীবনের সফলতা অর্জন করা যেতে পারে।

Rate this post