কলা কেন বাঁকা হয়? জানুন বৈজ্ঞানিক কারণ ও বিস্ময়কর তথ্য

admin
By
admin
2 Min Read
কলা

কলা আমাদের অন্যতম প্রিয় ফল। কিন্তু একটি প্রশ্ন অনেকের মনে জাগে—কেন কলা সোজা নয়, বাঁকা হয়? এই সাধারণ প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে বিজ্ঞানের ভেতর। কলার বাঁকা হওয়ার পেছনে রয়েছে ফটোট্রপিজম, নেগেটিভ জিওট্রপিজম এবং অক্সিন হরমোনের ভূমিকা। আসুন জেনে নেই বিস্তারিত।

ফটোট্রপিজম: আলোর দিকে বাড়ার প্রবণতা


ফটোট্রপিজম হলো উদ্ভিদের আলোর দিকে বৃদ্ধি পাওয়ার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য।

  • সূর্যের দিকের অংশ কম বাড়ে এবং বিপরীত দিক তুলনামূলক বেশি বাড়ে।
  • কলা ছোট অবস্থায় সূর্যের দিকে বাড়তে থাকে।

এর ফলে কলা বাঁকা আকার ধারণ করে।

জিওট্রপিজম ও নেগেটিভ জিওট্রপিজম

প্রথম অবস্থায় কলা মাধ্যাকর্ষণের কারণে নিচের দিকে ঝুলে থাকে।
কিন্তু ট্রপিক্যাল রেইনফরেস্টে জন্ম নেওয়া কলাগাছ আলো পেতে মাধ্যাকর্ষণের বিপরীত দিকে উপরের দিকে বাড়ে।

  • এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় নেগেটিভ জিওট্রপিজম
  • পরে আবার সামান্য নিচে ঝুঁকে যায় মাধ্যাকর্ষণের কারণে।

এই দুই বিপরীত প্রভাব কলাকে বাঁকা করে।

অক্সিন হরমোনের ভূমিকা

অক্সিন হলো উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণকারী একটি হরমোন।

  • কলার অঙ্কুরে সূর্যের দিকে বাড়তে গিয়ে এক পাশে বেশি অক্সিন জমে।
  • এর ফলে বৃদ্ধি অসম হয় এবং কলা অন্য দিকে বাঁকা হয়ে যায়।

এভাবেই অক্সিন কলার বিশেষ আকৃতিতে প্রভাব ফেলে।

পরিবেশ ও প্রজাতির প্রভাব

  • কলার গাছের বয়স, প্রজাতি, এবং আলো পাওয়ার পরিবেশ কলার আকারকে প্রভাবিত করে।
  • কিছু প্রজাতির কলা তুলনামূলক সোজা জন্মায়।
  • তবে বেশিরভাগ প্রজাতির কলাই বাঁকা আকার ধারণ করে।

সবশেষে বলা যায়

কলা বাঁকা হওয়ার পেছনে রয়েছে প্রকৃতির বিস্ময়কর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। ফটোট্রপিজম, নেগেটিভ জিওট্রপিজম এবং অক্সিন হরমোন মিলেই কলাকে দিয়েছে তার অনন্য বাঁকা আকৃতি। আর এই বাঁকা রূপই কলাকে করেছে স্বতন্ত্র ও পরিচিত।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Ad opens in 10s (once every 1 day)