মূল্যবোধ না থাকে তাহলে অন্যায়, অনুচিত ও মন্দ কাজ সে পরিহার করতে পারবে না।
তাই নৈতিকতা ও মূল্যবোধ সম্পর্কে জানতে আমার পোস্টটি মনোযোগ সহকারে
পড়ুন।
নৈতিকতা ও মূল্যবোধের স্বরূপ অনুধাবন করার আগে আমাদের জানতে হবে নৈতিকতা এবং
মূল্যবোধ কি বা কাকে বলে। নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শব্দ দুটি একই ধরনের বা কাছাকাছি
অর্থ বোঝালেও শব্দ দুটোর মাঝে পার্থক্য বিদ্যমান। নৈতিকতা ও মূল্যবোধ রচনা নিয়ে
বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
পোস্ট সূচীপত্রঃ নৈতিকতা ও মূল্যবোধ রচনা
নৈতিকতা ও মূল্যবোধ রচনা
মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনের সাথে নৈতিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অবিচ্ছেদ্য
সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের সভ্য সমাজে বসবাস করতে হলে কিছু রীতি নীতি অনুসরণ করতে
হয়। কারণ মানুষ প্রাণী জগতের সদস্য হলেও সে পশু নয়। তাই মানুষের সাধনা হলো
মনুষত্ব অর্জনের সাধনা। যা মানুষের গুণাবলী অর্জন,ন্যায় -অন্যায়, ভালো-মন্দ,
উচিত – অনুচিত বিচার করার শক্তি দেয়।
নৈতিকতা আমাদের অন্যায়, অনুচিত ও মন্দ কাজকে পরিহার করে নৈতিক আদর্শের অনুবর্তী
করে তোলে। বর্তমান প্রেক্ষাপট লক্ষ্য করলে দেখা যায় নৈতিকতা ও মূল্যবোধ
দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। আর ধীরে ধীরে মানুষ হয়ে উঠছে অনৈতিক। নৈতিকতা সমাজে
অশান্তকর পরিবেশ সৃষ্টিতে বাধা দেয়। আধ্যাত্মিকতার মত গুণাবলী কে মানুষ হারিয়ে
ফেলছে। কারণ মানুষের আকাশ ছোঁয়া লোভ, কামনা, বাসনা সর্বোপরি বিজ্ঞানের অগ্রগতি
মানুষকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে।
যার ফলশ্রুতিতে পরিবার – সমাজ সর্বক্ষেত্রে অশান্তি লক্ষ্য করা যায়। সামান্য
বিষয়কে কেন্দ্র করে মানুষ যুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বর্তমান সময়ে মানুষ
জীবন ধারণের জন্য চাকরি মুখি শিক্ষা গ্রহণ করছে। কিন্তু আমাদের শিক্ষা
গ্রহণের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত বিকশিত হওয়া। সঠিক শিক্ষা গ্রহণ করে নৈতিকতা ও
মূল্যবোধ বৃদ্ধি করতে হবে। তবেই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হবে নৈতিকতা বোধে
উজ্জীবিত।
ভূমিকা
মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। যাকে বলা হয় আশরাফুল মাখলুকাত। এই বৈচিত্র্যময়
পৃথিবীতে সৃষ্টির সবচেয়ে সেরা জীব হলো মানুষ। মস্তিষ্ককে কাজে লাগিয়ে
মানুষ তার বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে উন্নত সভ্যতা গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। সেই আদিম
যুগ থেকে এখন পর্যন্ত সময়ের বিবর্তনের সাথে সাথে মানুষ তৈরি করেছে দেশ, জাতি ও
সমাজ। এই বিবর্তনের মাধ্যমে সময় যত এগিয়ে চলেছে মানুষের বন্ধন ততই দৃঢ় হয়েছে।
একটু গভীরভাবে চিন্তা করলেই মনে প্রশ্ন জাগে ! মানুষ পৃথিবীর অন্যান্য জীব থেকে
আলাদা হয়ে উন্নত সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম হলো ! প্রচলিত প্রবাদ বাক্য
অনুসরণ করলে এ প্রসঙ্গে বলা যায়, বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগের ফলেই আত্মার অন্তঃস্থলে
মান এবং হুঁশের জাগরণী মানুষকে অন্যান্য জীব থেকে আলাদা করেছে ।
নৈতিকতা ও মূল্যবোধ কি
নৈতিকতা ও মৌলবোধ নিয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো-
নৈতিকতা কি
মানুষের জীবনের দৈনন্দিন কাজকর্ম ও সামাজিক কাজকর্ম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য যেসব
আদর্শ, নীতি এবং আইনগত ধর্মীয় ও সামাজিক অনুশাসন বা নিয়ম-নীতি মেনে চলে তাকে
সার্বিকভাবে বা তার সমষ্টিকে বলা হয় নৈতিকতা। আর নৈতিকতার অনুশাসনের
প্রভাবেই মানুষ আইন-শৃঙ্খলা মেনে চলে। এবং নৈতিকতা বিরোধী কোনো কাজ করে না এবং
রাষ্ট্রের অনুশাসনকে সে শ্রদ্ধা করে।
মূল্যবোধ কি
মানুষের আচরণকে পরিচালনা করে যে নীতি বা মানদন্ড তাকে বলা হয় মূল্যবোধ। অনেক
সময় নৈতিকতাকে মূল্যবোধের সাথে সমর্থক বলে মনে করা হয়। কিন্তু নৈতিকতা এবং
মূল্যবোধ সম্পূর্ণ ভিন্ন দুইটা বাক্য।
নৈতিকতা ও মূল্যবোধের স্বরূপ অনুধাবন করার আগে আমাদের জানতে হবে নৈতিকতা এবং
মূল্যবোধ কি বা কাকে বলে। নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শব্দ দুটি একই ধরনের বা কাছাকাছি
অর্থ বোঝালেও শব্দ দুটোর মাঝে পার্থক্য বিদ্যমান। তবে শব্দ দুটির মধ্যে পার্থক্য
পরিলক্ষিত হলেও একটি সাথে অপরটি অতপ্রত ভাবে জড়িত। নৈতিকতা ও মূল্যবোধ
শব্দ দুইটির সঠিক ব্যাখ্যা দর্শন শাস্ত্রে উল্লেখ করা আছে। নৈতিকতা ও মূল্যবোধের
অভাবে আমাদের পরিবার সমাজ এবং রাষ্ট্র আজ অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
কিন্তু আমরা জানি পরিবার এবং রাষ্ট্র একই সূত্রে গাঁথা। তাই পরিবারের অবক্ষয় হলে
তার প্রভাব সমাজ এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রের ওপর আবর্তিত হয়। এর জন্য সবার আগে
আমাদের জানতে হবে নৈতিকতা কি বা কাকে বলে। এর উত্তরে আমরা বলতে পারি, নীতি
সম্পর্কিত বোধ বা অনুভূতি হল নৈতিকতা। এটি মানব গুণাবলী সহ অন্যান্য গুণাবলী কে
বোঝায়। নৈতিকতা মানুষের আচরণ বা চরিত্রকে প্রকাশ করে। মানুষের নৈতিক
গুণাবলী বা চারিত্রিক আদর্শ হলো নৈতিকতা।
নৈতিকতার সহজ সংজ্ঞা হলো ভদ্রতা, নম্রতা, উত্তম আচরণ, সৎ চরিত্র ইত্যাদি। নৈতিকতা
পারতপক্ষে উদ্দেশ্য, সিদ্ধান্ত এবং কর্মের সাথে সম্পর্কিত। একজন মানুষের চরিত্র
প্রকাশিত ও বিকশিত হয় তার নৈতিকতার মাধ্যমে। মানুষ তার নৈতিকতা মেনে চলে তার
পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও ধর্মের উপর ভিত্তি করে। আর পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র
আরোপিত হয় এইসব নৈতিকতাকে কেন্দ্র করে। মানসিকতা বা প্রবণতাকে বলা হয়
নৈতিকতা।
নৈতিকতাকে আরেক অর্থে বলা হয় আত্মশুদ্ধি বোধ। নৈতিকতার মধ্যে লুকিয়ে থাকে সততা,
ন্যায় পরায়নতা, আদর্শ বাদীতা ও মহত্ব। এই পৃথিবীতে প্রায় ৭০০ কোটি লোক রয়েছে।
এই ৭00 কোটি লোকের বিশ্বাস ও নীতি এক নয়। যেমন একেক জন মানুষ একেক ধর্মের
অনুসারী বা বিশ্বাসী। আর সে ক্ষেত্রে তারা নিজ নিজ ধর্মের আদর্শ, নীতি ও
বিশ্বাসকে মেনে চলে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, একজন মুসলিম আর একজন মুসলিমের সাথে
দেখা হলে তাকে সম্মান জানানোর জন্য নিজস্ব রীতি অনুযায়ী তাকে সালাম দেয়।
অন্যদিকে তেমনি অন্য ধর্মের মানুষ তাদের ধর্মীয় মানুষকে সম্মান প্রদর্শন করে
তাদের ধর্মীয় রীতি – নীতি মেনে। আর এগুলোকে আমরা মূল্যবোধ বলে থাকি। একজন সচেতন
মানুষ তার দৈনন্দিন কাজ সম্পাদন করে মূল্যবোধ ও বিবেককে প্রাধান্য দিয়ে। কোন
সামাজিক চাপে পড়ে বা ব্যক্তিগত, সমষ্টিগত স্বার্থের কারণে সে কোন কাজ
সম্পাদন করবে না। তবেই তিনি সমাজ বা রাষ্ট্রের কাছে একজন মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ
হিসেবে বিবেচিত হবেন।
মূল্যবোধ ও নৈতিকতা মানুষকে তার মানবতাবোধ জাগ্রত করতে সহায়তা করে। একই সমাজে
একসঙ্গে বসবাস করার ফলে যে অভিজ্ঞতা আবর্তিত হয় তা থেকে মানুষের মূল্যবোধ গড়ে
ওঠে। আর একটি পরিবার সমাজ বা রাষ্ট্রের চালিকা শক্তি হল নৈতিকতা। আর এই নৈতিকতার
অভাব রাষ্ট্রের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক মানদণ্ডকে সমালোচিত করে।
মানুষের আচরণগত মানদণ্ড, নীতি ও বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে। আর সেই নীতি ও
বিশ্বাসীই হলো নৈতিকতা। নৈতিকতা সম্পর্কে মানুষের যে শিক্ষা সে শিক্ষায় মানুষকে
মূল্যবোধ সম্পর্কে সজাগ করে তোলে।
নৈতিকতা ও মূল্যবোধের পার্থক্য
নীতিশাস্ত্র সেখানে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে মান বিভিন্ন ব্যক্তির জন্য পৃথক,
অর্থাৎ যা একজন ব্যক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ তা অন্য ব্যক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ
নাও হতে পারে।
নীতিশাস্ত্র হল নৈতিক নীতিগুলির একটি ব্যবস্থা। আমাদের চিন্তার উদ্দীপনা , যা
মানগুলির বিপরীতে।
নীতিশাস্ত্র আচরণের নির্দেশিকাগুলিকে বোঝায়, নৈতিকতা সম্পর্কে এই ঠিকানাটি।
মানকে নীতি ও আদর্শ হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়, যা তাদেরকে আরও গুরুত্বপূর্ণ
বিষয়টির বিচার করতে সহায়তা করে।
মানগুলি দৃঢ় ভাবে মনের সংবেদনশীল অবস্থাকে প্রভাবিত করে। তাই এটি একটি প্রেরণা
হিসাবে কাজ করে। অন্যদিকে, নীতিশাস্ত্র হল এমন একটি বিষয় যা বিশেষ ক্রিয়া অনুসরণ
করতে বাধ্য করে।
নৈতিকতা নীতি নির্ধারণ করে, আমাদের বিকল্পগুলি কতটা সঠিক বা ভুল সেই মানগুলির
বিপরীতে যা জীবনের জন্য আমাদের অগ্রাধিকারগুলি সংজ্ঞায়িত করে থাকে।
আর মূল্যবোধ আমাদের মূল্যবোধগুলিকে জানায় যে আমরা আমাদের জীবনে কী
করতে বা অর্জন করতে চাই। যেখানে নৈতিকতা আমাদের প্রদত্ত পরিস্থিতিতে নৈতিকভাবে
সঠিক বা ভুল কী তা সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।
নৈতিকতা ও মূল্যবোধ নিয়ে উক্তি
অযোগ্য নেতৃত্ব, নীতিহীন নেতা ও কাপুরুষ রাজনীতিবিদদের সাথে কোনোদিন একসাথে হয়ে
দেশের কাজে নামতে নেই। তাতে দেশসেবার চেয়ে দেশের ও জনগণের সর্বনাশই বেশি হয়।
👉
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
নৈতিকতা বিবর্জিত মানুষের চরিত্র বলতে কিছুই থাকে না
👉 কবীর চৌধুরী
প্রকৃতির নিয়মে নৈতিকতা নেই, গতির সমীকরণে ন্যায্যতার কোনো নিয়ম নেই। মহাবিশ্ব
না মন্দ, না ভাল, এটি কেবল পরোয়া করে না। নক্ষত্ররা পরোয়া করে না, না সূর্য, না
আকাশ।কিন্তু তাদের করতে হবে না! আমরা যত্ন নিই! পৃথিবীতে আলো আছে, এবং এটি মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্র!
👉 এলিয়েজার ইউডকোভস্কি
অনৈতিক কাজগুলো কেবল অনৈতিক হয়েই থেমে থাকে না৷ কারণ সেগুলো আইন মানে না।
👉 ই. এ. বুচিয়ানেরি
নৈতিকতা সম্ভবত অনাগত পুরুষদের আবিষ্কার ছিল। এটা আসলে কার উপকারে আসে।
👉 মনু জোসেফ
চিত্রাঙ্কন যেখানে দুর্বল, যথা, সর্বাধিক নৈতিক ও আধ্যাত্মিক ধারণাগুলির
বহিঃপ্রকাশে সেখানে সংগীত সারাক্ষণ শক্তিশালী।
👉 হ্যারিট বিচার স্টো
সর্বদা স্বীকৃতি দিন যে মানব ব্যক্তিগুলি শেষ, এবং এগুলি আপনার শেষের উপায়
হিসাবে ব্যবহার করবেন না।
👉
ইমানুয়েল কান্ত
এক উষ্ণ চিন্তার আভা আমার কাছে অর্থের চেয়ে বেশি মূল্যবান।
👉 থমাস
জেফারসন
যে ব্যক্তি নৈতিক বোধ হারিয়ে ফেলেছে সে যুদ্ধের মতো একজনের মতো যার পা দুটোই
কেটে ফেলা হয়েছে: তার দাঁড়াবার মতো কিছুই নেই।
👉 হেনরি
ওয়ার্ড বিচার
একটি সমাজের নৈতিকতার পরীক্ষাটি এটি তার বাচ্চাদের সাথে যা করে।
👉 ডায়েরিচ
বনহোফার
নৈতিকতার প্রকৃত ভিত্তি হল উপযোগিতা; অর্থাৎ সাধারণ কল্যাণ ও সুখের উন্নয়নে
আমাদের কর্মের অভিযোজন; আমাদের জীবনকে শাসন করার প্রচেষ্টা যাতে আমরা মানবজাতির
সেবা এবং আশীর্বাদ করতে পারি।
👉 অ্যানি বেসান্ট
স্বাধিকার সংগ্রাম থেকেই মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা। আজ যদি সেই জাতীয়তাবাদী চেতনা
বিসর্জন দিয়ে পশ্চিমি সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ করি তা আমাদের চরম দীনতা ও নৈতিক
পরাজয়। আমাদের বিশ্বায়নের প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন বাংলায়ন।
👉
সৈয়দ আবুল মকসুদ
ভাল মানুষটিই সেই ব্যক্তি, তিনি যতই নৈতিকভাবে অযোগ্য হয়ে থাকুন না কেন, উন্নত
হওয়ার দিকে এগিয়ে চলেছেন।
👉 জন ডিউই
প্রতিটি দিন তার নিজস্ব উপহার প্রদান করে।
👉 মার্কাস
অরেলিয়াস
কেবলমাত্র আমরা যে ধারণাগুলি বাস করি তার কোনও মূল্য থাকে।
👉 হারমান হেসে
পৃথিবী যে বইগুলিকে অনৈতিক বলে, সেগুলো এমন বই যা পৃথিবীকে তার নিজের লজ্জা
দেখায়।
👉
অস্কার ওয়াইল্ড
যার নৈতিকতা নেই তার চরিত্র বলতে কিছু নেই।
👉
কবির চৌধুরী
নৈতিকতার নিয়ম আমাদের কারণের উপসংহার নয়।
👉
ডেভিড হিউম
সম্মান কেবল শ্রেষ্ঠ পুরুষদের নৈতিকতার জন্য।
👉
এইচ এল মেনকেন
ইসলামে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ
ইসলাম ধর্মের মূল শিক্ষা হলো নৈতিকতা ও মূল্যবোধ। সব আসমানী কিতাবেই নৈতিকতা ও
মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। নৈতিকতা ও মূল্যবোধ এমন একটি শিক্ষা যা
মানুষকে অন্যান্য প্রাণী থেকে আলাদা করে। সেই ব্যক্তি কখনোই ধার্মিক হতে পারে না
যার নৈতিকতা বা মূল্যবোধ নেই। কারণ ধর্মের মূল শিক্ষা হলো সততা,সত্যতা এবং
পবিত্রতা।
আমাদের প্রিয় নবী হজরত মোহাম্মদ (সাঃ) বিদায় হজের ভাষণে বলেছিলেন, “এই মক্কা নগরী
যেমন সম্মানিত, এই আরাফাতের প্রান্তর যেমন মর্যাদাবান, এই হজের দিবস যেমন
ফজিলতপূর্ণ, এই কাবাঘর যেমন পবিত্র, প্রত্যেক মানুষের জান, মাল ও ইজ্জত অনুরূপ
সম্মানীয় ও পবিত্র এবং তা অপরের জন্য হারাম ও নিষিদ্ধ”। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া)।
মিথ্যাকে ইসলামে সব পাপের জননী বলা হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম
বলেছেন, “যারা প্রতারক তারা আমার উম্মত নয়” (মুসলিমঃ ১০১)। কোরআনে পরনিন্দা বা
গীবতকে আপন মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সাথে তুলনাকরা হয়েছে। মিথ্যা অপবাদ দেওয়া
শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অহেতুক ধারণা করা হতে বিরত থাকতে বলা হয়েছে,
“হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা ধারণা পোষণ হতে বিরত থাকো, অনেক ধারণায় পাপ হয়। তোমরা
পরচর্চা কোরো না, একে অন্যের গিবত কোরো না। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত
খেতে পছন্দ করবে? অবশ্যই তোমরা তা অপছন্দ করবে। আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয় আল্লাহ
তওবা কবুলকারী দয়ালু”। (সুরাঃ ৪৯ হুজুরাত, আয়াতঃ ১২)।
উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আংশিক পরিবর্তন করা, সত্য গোপন করা এবং সত্য-মিথ্যার
সংমিশ্রণ অথবা বিষয় বা বিবরণ অসম্পূর্ণ রাখা ইসলামে হারাম। আল্লাহ তাআলা
বলেন,”তোমরা জেনেশুনে সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে মিশিয়ো না, আর সত্যকে গোপন কোরো না”।
(সুরাঃ ২ বাকারা, আয়াতঃ ৪২)। এই মিথ্যা কথা বলার কারনে তোমাদের পরকালে জবাবদিহি
করতে হবে।
আমাদের সামনে প্রতিনিয়ত যেসব তথ্য বা খবর আসে তার সত্যতা যাচাই না করে এর
সূত্রের বা উসের নির্ভরযোগ্যতা না জেনে তা কখনো প্রচার করা ঠিক নয়। রাসুলুল্লাহ
(সাঃ) বলেছেন, “যা শুনে তাই বলতে থাকা মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য যথেষ্ট”।
(মুসলিম)।কোন ব্যক্তির দোষ গোপন করার ব্যাপারে হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, “যে ব্যক্তি
কারও দোষ গোপন করল, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দোষ গোপন রাখবেন”।
(তাবরানি)।
ইসলামের শিক্ষাই হলো নৈতিকতা ও মূল্যবোধ। হাদিস বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সাঃ)
বলেন, “যার আমানতদারি নেই, যার কাছে নিরাপত্তা নেই, সে ইমানদার নয়। যার ওয়াদা
ঠিক নেই, তার কোনো ধর্মই নেই”।(মুসনাদে আহমাদ, হাদিসঃ ১২৩২৪, বায়হাকিঃ ৬ঃ ৩৮৮,
ইবনে হিব্বানঃ ৪১ঃ ৪৭)।
উপসংহার
নৈতিকতা হলো নিজে দায়মুক্ত থাকা, মূল্যবোধ হলো মানুষ আমার কাছে যা আশা করে তার
চেয়ে ভালো কিছু করা, সততা হলো নিজের কাছে সৎ থাকা। শত্রুর সঙ্গেও মিত্রতা
ভাব গড়ে তোলা। এর পেছনের মূল চালিকা শক্তি হলো বিশ্বাস, আশা ও ভালোবাসা। এ সবই
হলো ধর্মের মূল আদর্শ। একজন মুসলিম বা বিশ্বাসী মানুষ মানে একজন সৎ,
ইমানদার মানুষ। একজন উন্নত মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষই প্রকৃত পক্ষে ধার্মিক
মানুষ।
তাই প্রকৃত মানুষ হওয়ার জন্য নৈতিকতা ও মূল্যবোধ এবং সততা ও পবিত্রতার
চর্চা শুরু করতে হবে। আমি নৈতিকতা ও মূল্যবোধ রচনা নিয়ে বিস্তারিত লিখার চেষ্টা
করেছি। আমি আশা করি আমার এই লিখা আপনাদের অনেক উপকারে আসবে।
Leave a comment